হুরমতে মুসাহারাতের বিধান: শাশুড়ির সাথে অনৈতিক আচরণ ও দাম্পত্যের বৈধতা


         ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, শাশুড়ির সাথে কামোত্তেজনা বা যৌন তাড়না নিয়ে শারীরিক স্পর্শ, জড়িয়ে ধরা কিংবা যেকোনো কামভাবাপন্ন আচরণ সংঘটিত হলে (এমনকি চূড়ান্ত সহবাস ব্যতিরেকেও) ‘হুরমতে মুসাহারাত’ (বৈবাহিক সম্পর্কজনিত স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা) সাব্যস্ত হয়ে যায়।

ফিকহে হানাফির সর্বসম্মত ফতোয়া অনুযায়ী, কোনো পুরুষ যদি তার শাশুড়ির সাথে এ রূপ আচরণে লিপ্ত হয়, তবে তার ওপর নিজ স্ত্রী চিরতরে হারাম হয়ে যায়। এর ফলে তাদের দাম্পত্য সম্পর্ক তাৎক্ষণিকভাবে ছিন্ন হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে উভয়ের অবিলম্বে পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ওয়াজিব। পরবর্তীতে খাঁটি দিলে তাওবা-ইস্তিগফার করলেও বৈবাহিক সম্পর্ক আর কখনো পুনর্বহাল করার সুযোগ থাকে না এবং নতুন করে পুনরায় নিকাহ করাও বৈধ নয়।

হাদিস ও আছার সংশ্লিষ্ট দলিলসমূহ:

১.> أَخْبَرَنَا أَبُو حَنِيفَةَ، عَنْ حَمَّادٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ: «إِذَا قَبَّلَ الرَّجُلُ أُمَّ امْرَأَتِهِ أَوْ لَمَسَهَا مِنْ شَهْوَةٍ حَرُمَتْ عَلَيْهِ امْرَأَتُهُ> (أَخْرَجَهُ مُحَمَّدٌ فِي الْحُجَجِ وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ — إِعْلَاءُ السُّنَنِ: ۱۱/۱۳۱)

ইমাম আবু হানিফা (রহ.) আমাদের বর্ণনা করেছেন হাম্মাদ (রহ.) থেকে, তিনি ইবরাহিম নাখয়ি (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন; তিনি বলেছেন: ‘“কোনো পুরুষ যদি কামভাবের সাথে তার স্ত্রীর মাকে (শাশুড়িকে) চুম্বন করে অথবা স্পর্শ করে, তবে তার স্ত্রী তার ওপর চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।’ 

(ইমাম মুহাম্মদ এটি কিতাবুল হুজ্জাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য — ইলাউস সুনান: ১১/১৩১)

২. أَخْبَرَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ عَيَّاضٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَيْسِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ فِي الرَّجُلِ يَفْجُرُ بِالْمَرْأَةِ، قَالَ: «إِذَا نَظَرَ إِلَى فَرْجِهَا فَلَا يَحِلُّ لَهُ أُمُّهَا وَلَا بِنْتُهَا» (أَخْرَجَهُ مُحَمَّدٌ فِي الْحُجَجِ أَيْضًا وَرِجَالُهُ ثِقَاتٌ — إِعْلَاءُ السُّنَنِ: ۱۱/১৩২)ইসমাইল ইবনে আইয়াশ (রহ.) আমাদের বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: সাঈদ ইবনে আবি আরুবা (রহ.) কায়স ইবনে সাঈদ (রহ.) থেকে, তিনি মুজাহিদ (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন ওই ব্যক্তি সম্পর্কে যে কোনো নারীর সাথে ব্যভিচার/অশ্লীলতায় লিপ্ত হয়; মুজাহিদ (রহ.) বলেন: ‘সে যদি (কামভাব নিয়ে) নারীর লজ্জাস্থানের অভ্যন্তরে দৃষ্টিপাত করে, তবে তার জন্য ওই নারীর মা এবং মেয়ে কারো সাথেই বিবাহ হালাল থাকবে না।’ (ইমাম মুহাম্মদ এটিও কিতাবুল হুজ্জাহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন এবং এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য — ইলাউস সুনান: ১১/১৩২)

ফিকহি মূলনীতি ও ফতোয়ার কিতাবাদির দলিলসমূহ

৩.وَمَنْ مَسَّتْهُ امْرَأَةٌ بِشَهْوَةٍ حَرُمَتْ عَلَيْهِ أُمُّهَا وَابْنَتُهَا»

> (فَتْحُ الْقَدِيرِ: ৩/২১৩; الْفَتَاوَى الْعَالَمْكِيرِيَّةُ: ১/২৭৪)

 ‘কোনো নারী যদি কোনো পুরুষকে কামভাবের সাথে স্পর্শ করে (অথবা কোনো পুরুষ নারীকে কামভাব নিয়ে স্পর্শ করে), তবে সেই পুরুষের জন্য উক্ত নারীর মা (শাশুড়ি) এবং মেয়ে চিরতরে হারাম হয়ে যাবে।’ (ফাতহুল কাদীর: ৩/২১৩; ফাতাওয়ায়ে আলমগীরী: ১/২৭৪)

৪.حَرُمَ أَيْضًا بِالصِّهْرِيَّةِ أَصْلُ مَزْنِيَّتِهِ وَأَصْلُ مَمْسُوسَتِهِ بِشَهْوَةٍ ... وَفُرُوعُهُنَّ»

> (رَدُّ الْمُحْتَارِ عَلَى الدُّرِّ الْمُخْتَارِ: ৪/১০৭-১০৮)

‘বৈবাহিক আত্মীয়তার সম্পর্ক সূত্রে যেভাবে হারাম সাব্যস্ত হয়, ঠিক একইভাবে যার সাথে যিনা করা হয়েছে তার মূল (মা-নানি) এবং কামভাব নিয়ে স্পর্শ করা নারীর মূল (মা-নানি) এবং তাদের শাখা-প্রশাখা (মেয়ে, নাতনি প্রমুখ)-ও চিরতরে হারাম হয়ে যায়।’ (রদ্দুল মুহতার: ৪/১০৭-১০৮)

هَذَا مَا عِنْدِي وَاللهُ أَعْلَمُ بِالصَّوَابِ